টেলিভিশন
সূচনা:
‘ টেলিভিশন ’ শব্দ ল্যাটিন ‘ টেলি ’ অর্থাৎ ‘ দূর ’ ও ‘ ভিশন ’ অর্থাৎ ‘ দর্শন ’ -এর সমন্বয় । অতএব , যে যন্ত্রের সাহায্যে বহুদূরের বস্তুকে দর্শন করা যায় , তারই নাম টেলিভিশন । এই টেলিভিশন হল আধুনিক বৈজ্ঞানিক যুগের সাধারণ মানুষের নিকট সর্বাপেক্ষা বিষ্ময়কর আবিষ্কার ।
আবিষ্কার ও মূলতত্ত্ব:
নেপকো নামক জার্মান বৈজ্ঞানিক আবিষ্কৃত সূত্রাবলীর সাহায্যে বেয়ার্ড নামক একজন ইংরেজ বৈজ্ঞানিক ১৯২৬ খ্রীষ্টাব্দে টেলিভিশন যন্ত্র উদ্ভাবন করেন । বেতার যন্ত্রের শব্দ প্রেরণের ন্যায় এই যন্ত্রের সাহায্যে দৃশ্যও স্থানান্তরে প্রেরণ ও প্রতিফলন সম্ভপন্ন হয় । অতঃপর অতি দ্রুত উন্নতি সাধিত হয়ে ১৯৪৫ খ্রীষ্টাব্দে ইহা বর্তমানের আলোচ্ছায়া বিশিষ্ট সাধারণ টেলিভিশনরূপে আত্মপ্রকাশ করে । তখন হতেই ব্যাপকভাবে টেলিভিশনের ব্যবহার শুরু হয় । বর্তমানে রঙিন দৃশ্যাবলীও টেলিভিশনে প্রেরণ ও গ্রহণ সম্ভবপর হয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ।
টেলিভিশন হল বেতার যন্ত্রের উন্নত সংরক্ষণ । এতে প্রেরক ও গ্রাহক নামক দুইটি যন্ত্র থাকে । প্রেরক যন্ত্র এর সম্মুখস্থ দৃশ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে প্রতিটি অংশের আলোর তীব্রতা অনুসারে পৃথক পৃথক ঘনত্বের বিদ্যুৎ তরঙ্গ গ্রহণ করে পুনরায় বিভিন্ন তীব্রতার আলোতে রূপান্তরিত আলোর ঝলকগুলো ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে আপতিত করা হয় । ফলে প্রেরক যন্ত্রের সম্মুখস্থ দৃশ্যের অনুরূপ দৃশ্য গ্রাহক যন্ত্রের পর্দায় ফুটে উঠে । টেলিভিশনের পর্দা কমপক্ষে পাঁচ হাজার অংশে বিভক্ত থাকে এবং প্রতি সেকেণ্ডে ওদের প্রত্যেকটির উপর কমপক্ষে ১৩ বার আলোর ঝলক পতিত হয় ।
টেলিভিশনের ব্যবহার:
টেলিভিশন অতি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে । তবে মূল্যাধিক্যের ফলে এক সময় বাংলাদেশের ন্যায় দরিদ্র দেশগুলোতে টেলিভিশনের সংখ্যা খুব বেশী ছিলনা । কিন্তু বর্তমানে এর ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। টেলিভিশন দেশ - বিদেশের চলতি ঘটনাবলী ও খৈলাধুলা , যাবতীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার ন্যায় অবলোকন করা যায় । কোন কোন ঘটনায় ছায়াছবি গ্রহণ করে পরে টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচারিত হয় । পৃথিবীর সকল দেশেই ছাত্র - ছাত্রী ও জনগণের শিক্ষার মাধ্যমরূপে টেলিভিশন ব্যবহার করা শুরু হয়েছে ।
উপকার ও অপকার:
টেলিভিশন প্রায় সমগ্র পৃথিবীকে আমাদের চক্ষুর সম্মুখে আনয়ন করেছে । অতি অল্প সময় ব্যয়ে ও বিনা পরিশ্রমে আমরা এখন ঘরে বসে খেলাধূলা , রাজনৈতিক বক্তৃতা ইত্যাদি দেখতে ও শুনতে পারি । মাঠে গিয়ে আর কাহারও ভীড় করতে হয় না । ছাত্র - ছাত্রী ও জনসাধারণের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাদান , জ্ঞানদান ও বিশ্বের অনেক কিছুর সাথে পরিচিত করাতে এবং সকল আনন্দ বিধান করতে এখন টেলিভিশন হল জাতীয় পর্যায়ে সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম ।
তবে পরিচালনাগত ত্রুটির ফলে কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল নাটক , নাচ - গান , বিজ্ঞাপন ইত্যাদি প্রচারের ফলে টেলিভিশন ব্যবস্থা দেশের জনগণের নৈতিক অধঃপতন ঘটাতে পারে । তাছাড়া , টেলিভিশন দর্শনের নেশায় অনেক ছাত্র - ছাত্রী ও কর্মী তাদের মূল্যবান সময় অপচয় করে থাকে ।
উপসংহার:
বেতারের উন্নত সংস্করণ টেলিভিশন আজ বেতারের স্থান অধিকার করেছে । জ্ঞানবৃদ্ধি ও আনন্দ বিধানের এমন উপকরণ বিশ্বে আর দ্বিতীয় পাওয়া যায় না ।

0 মন্তব্যসমূহ