মাতাপিতার প্রতি কর্তব্য
সূচনা:
প্রত্যেকের নিকট তার মাতাপিতার স্থান সর্বাপেক্ষা উপরে । কারণ প্রত্যেকেই তার জীবনের জন্য মাতাপিতার নিকট ঋণী । জন্মের পরে মানুষ পৃথিবীতে কেবল অপরের সৃষ্ট ভোগের বস্তু ভোগ করেই জীবন যাপন করবে না , পৃথিবীর জন্যও তার কিছু করণীয় আছে । সেই কর্তব্যের প্রথমটি হল নিজ নিজ মাতাপিতার প্রতি কর্তব্য ।
মাতাপিতার গুরুত্ব:
পৃথিবীর সকল ধর্মগ্রন্থ ও নীতিশাস্ত্রে মাতাপিতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য সম্মন্ধে নির্দিষ্ট বিধান দেয়া আছে । যেমন , হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রের বচন ‘ জননী জন্মভূমিশ্চঃ স্বর্গাদপি গরীয়সী ' অর্থাৎ জননী ও জন্মভূমি স্বর্গ অপেক্ষা অধিক গৌরবজনক । মুসলমান ধর্ম শাস্ত্রে আছে ‘ মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেস্ত ' । এ মর্মে বলা হয় যে , মাতাপিতাকে সন্তুষ্ট করলে আল্লাহও সন্তুষ্ট হন ।
মাতাপিতার বাৎসল্য:
স্নেহই এ সকল ধর্মীয় নির্দেশের কারণ । পিতামাতাগণ যে কতখানি সন্তান বাৎসল্য নিয়ে আমাদিগকে লালন পালন করেন , সাধারণভাবে ভাষায় তা বর্ণনা করা অত্যন্ত কঠিন । তবে আমাদের চারিপার্শ্বে কবুতর , মুরগী , গরু , কুকুর , বিড়াল ইত্যাদির দিকে দৃষ্টিপাত করলেই সন্তানের প্রতি মাতার স্নেহ মমতা উপলব্ধি করা যায় । সন্তানের অসুস্থতায় মাতা আহার নিদ্রা পরিহার করে সারারাত্রি জেগে সন্তানের শিহরে বসে সেবা শুশ্রূষা করে । সন্তানের প্রতি মাতার নিঃস্বার্থ ভালবাসা জগতে অতুলনীয় । তাই বলা যায় যে মাতাপিতার ন্যায় পরম হিতৈষী জগতে আমাদের আর কেহ নেই ।
মাতাপিতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য:
মাতাপিতা যে স্নেহ - যত্নে আমাদিগকে লালন পালন করে থাকেন , সারাজীবন সেবা করেও তাঁদের সেই ঋণ শোধ করা সম্ভবপর নয় । সন্তান অবাধ্য হলে মাতাপিতা দুঃখিত হন । তাই তাঁদের প্রতি সর্বদা আমাদের অনুগত ও বাধ্য থাকা উচিত । মাত-পিতা তাদের জ্ঞানমত সন্তানকে সুপথে পরিচালিত করতে চেষ্টা করেন । অপেক্ষাকৃত স্বল্প অভিজ্ঞতা নিয়ে তার বিরোধিতা করা সন্তানের উচিত নয় । বিনা প্রতিবাদে মাতাপিতার আদেশ ও উপদেশ মেনে চলতে হবে । মাতাপিতার মনে কষ্ট দিয়ে সন্তান কখনও জীবনে সুখী হতে পারে না । বৃদ্ধ বয়সে যখন মাতাপিতা অক্ষম ও অসহায় হয়ে পড়েন , তখন তাঁদের সেবা - যত্ন করা প্রতিটি সন্তানের অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় ।
উপসংহার:
পৃথিবীর ইতিহাসে যাঁরা মহাপুরুষরূপে বিখ্যাত হয়েছেন , তাঁদের প্রায় সকলেই আন্তরিক নিষ্ঠার সাথে মাতা - পিতার প্রতি কর্তব্য পালন করেছেন । মাতাপিতার প্রতি আনুগত্য সন্তানের নৈতিক চরিত্রকে দৃঢ় ও মহীয়ান করে তোলে । মাতাপিতার প্রতি কর্তব্য বোধ সকলকে নিয়মানুবর্তিতা , ধর্মনিষ্ঠা ও চরিত্র গঠন শিক্ষা দিয়ে তাদের জীবনকে সুখী , সমৃদ্ধ ও শান্তিময় করে তোলে । মাতাপিতার প্রতি নিজ নিজ কর্তব্য পালন না করে আমাদের সন্তান বাৎসল্য , দেশপ্রেম , জাতীয়তা বোধ , সমাজসেবা , ধর্মকর্ম ইত্যাদি সবই অর্থহীন হয়ে যায় ।

0 মন্তব্যসমূহ