সারাংশ বা সারমর্ম
সারাংশ কি?
কবি ও সাহিত্যিকগণের রচনার উদ্দেশ্যই হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুষ্ঠু ও যথাযথ বক্তব্য উপস্থাপন করা । কিন্তু যুগে যুগে সে সকল গুণীজনরা তাঁদের বিভিন্ন চিন্তাধারা ও মনোভাবকে দৃষ্টান্ত , যুক্তি , অলঙ্কার ও উপমীর মাধ্যমে বড় আকারে প্রকাশ করেছেন । সেসব রচনার দৃষ্টান্ত , যুক্তি , অলঙ্কার , উপমা ইত্যাদি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মূলভাবকে সহজ - সরল ভাষায় , সংক্ষেপে লেখাকেই সারাংশ লিখন বলে । একে সারমর্ম বা সংক্ষিপ্তসারও বলে । সাধারণত গদ্যের ভাব - সংক্ষেপণ বুঝাতে সারাংশ ও পদ্যের ভাব - সংক্ষেপণ বুঝাতে সারমর্ম কথাটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে ।
সারাংশ বা সারমর্ম লেখার বিবেচ্য বিষয়
সারাংশ বা সারমর্ম লেখার দক্ষতা অর্জন করতে হলে নিয়মিত চর্চা করতে হয় । চর্চা যত বেশি হয় ততই শিক্ষার্থীর পক্ষে রচনার মূল ভাববস্তু উপলব্ধির ক্ষমতা ও রচনা - নৈপুণ্য বৃদ্ধি পায় । একটি যথার্থ সারাংশ বা সারমর্ম লেখার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা দরকার :
১. পঠন : সারাংশ বা সারমর্ম লিখতে সরাসরি অনুচ্ছেদের তথ্য বর্জনীয় , মূলভাব বুঝে নিয়ে তাকে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হয় । তাই প্রথমেই মূলভাব বুঝার জন্য রচনাটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে ।
২ . মূলভাব সন্ধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিহ্নিতকরণ : প্রদত্ত রচনাংশে সাধারণত একটি মূলভাব বা বক্তব্য থাকে । তবে কখনো কখনো একাধিক মূলভাব বা বক্তব্য থাকতে পারে । মূলভাব খুঁজে নেওয়ার একটা ভালো উপায় হচ্ছে , যেসব বাক্য বা বাক্যাংশ মূলভাবের দ্যোতক বলে মনে হয় সেগুলো চিহ্নিত করা ।
৩ . বাহুল্য বর্জন : অপ্রয়োজনীয় অংশ থেকে প্রয়োজনীয় অংশ আলাদা করার মাধ্যমে সহজে মূলভাব বের করা যায় । এজন্য মূল রচনাংশে ব্যবহৃত উদ্ধৃতি , বর্ণনা , সংলাপ , উদাহরণ , অলঙ্কার ইত্যাদি বাদ দিতে হয় ।
৪ . ভিন্নতর প্রসঙ্গের অবতারণা না করা : সারাংশ বা সারমর্ম অবশ্যই মূল রচনার ভাব - ধারণার মধ্যে সীমিত থাকে । তাই মূলভাবের বাইরে অন্য কোনো প্রসঙ্গের অবতারণা করা যাবে না ।
সারাংশ বা সারমর্ম লেখার কৌশলসমূহ
সারাংশ বা সারমর্ম লেখার নানা কৌশল রয়েছে । যেমন—
ক . অনুচ্ছেদ : সারাংশ বা সারমর্ম একটি অনুচ্ছেদে লেখা উচিত ।
খ . প্রারম্ভিক বাক্য : প্রারম্ভিক বাক্য যথাসম্ভব সংহত ও আকর্ষণীয় হওয়া চাই । এতে পাঠক বা পরীক্ষক শুরুতেই চমৎকৃত হন ।
গ . প্রসঙ্গ বাক্য : প্রসঙ্গ বাক্য সারাংশ বা সারমর্মের প্রথমে থাকলে ভালো । তবে প্রয়োজনে মধ্যে কিংবা শেষেও থাকতে পারে ।
ঘ . প্রত্যক্ষ উক্তি : মূল অংশে প্রত্যক্ষ উক্তি থাকলে তা পরোক্ষ উক্তিতে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হয় ।
ঙ . পুরুষ : সারাংশ বা সারমর্মে উত্তম পুরুষে ( আমি , আমরা ) বা মধ্যম পুরুষে ( তুমি , তোমরা ) লেখা যাবে না । বক্তব্য বিষয় যথাসম্ভব নৈর্ব্যক্তিকভাবে লিখতে হয় ।
চ . উদ্ধৃতি : মূল অংশে কোনো উদ্ধৃতাংশ থাকলে সারমর্মে উদ্ধৃতিচিহ্ন বর্জিত হবে এবং সংক্ষিপ্ত ও সংহতরূপে তা প্রকাশ করতে হবে ।
ছ. ভাষা : সারাংশ বা সারমর্মের ভাষা সহজ - সরল ও সাবলীল হওয়া দরকার । তাই জটিল বাক্যের পরিবর্তে সরল বাক্য এবং দুরূহ শব্দের পরিবর্তে সহজ - সরল শব্দ ব্যবহার করা উচিত ।
জ . হুবহু উদ্ধৃতি বা অনুকৃতি : মূল অংশে কোনো অংশের হুবহু উদ্ধৃতি বা অনুকৃতি সারাংশ / সারমর্মে গ্রহণীয় নয় । মূলের কোনো অংশকে সামান্য পরিবর্তন করে লিখে দেওয়াও উচিত নয় ।
ঝ . খসড়া : সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময় প্রথমে প্রদত্ত রচনার মূল ভাবটুকুর আলোকে একটি প্রাথমিক খসড়া দাঁড় করানো ভালো । তারপর প্রয়োজনমতো যথোপযুক্ত ও শুদ্ধ করে নিতে হয় ।
ঞ . পরিসর : সারাংশ বা সারমর্ম কত বড় বা ছোট হবে তা নির্ভর করে প্রদত্ত অংশে বর্ণিত বিষয়ের গুরুত্ব ও গভীরতার ওপর । ফলে সারাংশ বা সারমর্ম মূলের সমান , অর্ধেক , এক - তৃতীয়াংশ বা তার কমও হতে পারে ।
2 মন্তব্যসমূহ
সুন্দর পোস্ট
উত্তরমুছুন(y)
উত্তরমুছুন